আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন, যখন কাউকে ঘরের আঙুল ফোটানোর অভ্যাস আছে, তখন কি সত্যিই হাড়ের ক্ষতি হয়? অনেকেই আঙুল ফোটা নিয়ে সতর্ক থাকেন এবং কখনও কখনও ভয় পান যে এটি অস্থিসন্ধি বা হাড়ের ক্ষতি করতে পারে। তবে এক দীর্ঘস্থায়ী গবেষণা এই রহস্যের পর্দা তুলে দিয়েছে।
আনগার নামের এক ক্যালিফর্নিয়ার চিকিৎসক ছিলেন যিনি এক অভিনব পরীক্ষা শুরু করেন ১৯৫০-এর দশকে। তিনি নিজে ৬০ বছর ধরে প্রতিদিন নিয়মিত বাম হাতের আঙুল ফোটানোর অভ্যাস চালিয়ে যান, কিন্তু ডান হাতের আঙুল মোটেও ফোটাননি। এই পরীক্ষা ছিল এক ধরণের প্রাকৃতিক গবেষণা যা দেখাতে চেয়েছিল—আঙুল ফোটানো কি সত্যিই হাড়ের ক্ষতি ঘটায়?
চিকিৎসক এই গবেষণার মাধ্যমে লক্ষ্য করেছেন, বাম হাতের আঙুল ফোটানোর পরও হাড়ের গঠন, শক্তি বা ফোঁটানো অংশে কোনো ক্ষতি হয়নি। বিশেষ করে হাড়ের স্থায়িত্ব বা অস্থিসন্ধি কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।
বিজ্ঞানী কী বলছেন?
গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছিল বিজ্ঞানী ও অর্থোপেডিক জার্নালে। এই পরীক্ষার প্রধান শিক্ষাটি হলো—
- আঙুল ফোটা হাড়ের ক্ষতি ঘটায় না।
- এটি অস্থিসন্ধি বা জয়েন্টের স্বাভাবিক ক্ষমতায় কোনো প্রভাব ফেলে না।
- ফোটানোর অভ্যাস কেবল একটি শব্দ বা ক্লিক সাউন্ড সৃষ্টি করে যা হাড়ের মধ্যে বাতাস বা তরল আন্দোলনের কারণে হয়।
অর্থাৎ, যেই শব্দ শুনতে পান ‘ক্র্যাক’ বা ‘পপ’—তা হাড়ের ক্ষতি নয়, বরং অস্থিসন্ধির ভেতরের ফাঁকিপথে গ্যাসের বুদবুদ ফেটে যাওয়ার শব্দ।
আঙুল ফোটানোর নিরাপদতা
চিকিৎসক এবং অন্যান্য গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে বলা যায়—
- নিয়মিত আঙুল ফোটানো সাধারণত নিরাপদ।
- যদি ব্যথা বা অস্বস্তি অনুভূত হয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
- হঠাৎ আঙুলের ফোটা বা ফোলা কোনো অস্থিসন্ধি সমস্যা বা আঘাতের ইঙ্গিত দিতে পারে।
আঙুল ফোটানো নিয়ে অনেক ভুল ধারণা প্রচলিত। কিন্তু এই দীর্ঘকালীন গবেষণা প্রমাণ করেছে যে, আঙুল ফোটালে হাড়ের ক্ষতি হয় না। শুধু সতর্ক থাকুন, যদি ব্যথা বা ফোলা দেখা দেয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।