মুসলমানদের বিশ্ব ইজতেমার উৎপত্তির কথা!

মুসলমানদের বিশ্ব ইজতেমার উৎপত্তির কথা!

“ইজতেমা” শব্দটি আরবি “اجتماع” থেকে নেওয়া, যার অর্থ মিলন, সভা বা সমাবেশ। মুসলমানদের “বিশ্ব ইজতেমা” বা “বিস্তা ইজতেমা” আসলে তাবলিগ জামাত আন্দোলনের একটি বিশাল ধর্মীয় সমাবেশ যেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ একত্র হয়ে তাঁদের বিশ্বাস ও ধর্মীয় চেতনা পুনরুজ্জীবিত করেন।

🔍 উৎপত্তি ইতিহাস

  • তাবলিগ জামাত গঠিত হয়েছিল ১৯২৬ সালে, মূলত উত্তর ভারতে — মুহাম্মদ ইলিয়াস আল-কান্ধলবী (Muhammad Ilyas al-Kandhlawi) এর নেতৃত্বে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ইসলামি চেতনা ও অনুশাসন ফিরিয়ে আনা, মুসলিমদের সত্যিকারের ধর্মচর্চায় উৎসাহিত করা, বিশেষত যারা ধর্মীয় রীতি-কানুন কম মেনে চলে বা আংশিকভাবে ধর্মীয় হওয়া অবস্থায় আছে।
  • বিশ্ব ইজতেমা (বিস্তা ইজতেমা) বাংলাদেশে কাকরাইল মসজিদে শুরু হয়। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে তা বড় হয় এবং ১৯৬৭ সাল থেকে টঙ্গির তুরাগ নদীর পার্শ্বে একটি স্থায়ী জায়গায় আয়োজন করা হচ্ছে।

🎯 উদ্দেশ্য গুরুত্ব

  • ইজতেমার মূল উদ্দেশ্য হলো মুসলিমদের নৈতিক ও আত্মিক উন্নয়ন; কুরআন ও হাদিসের আলোকে নিজের জীবনকে সাজিয়ে ধরা।
  • মুসলমানদের মধ্যে “উম্মাহ” বা সাম্প্রদায়িক ঐক্য ও পারস্পরিক ভালোবাসা ও সহমর্মিতা গড়ে তোলা। ইজতেমায় বক্তারা ধর্মীয় স্মরণ করিয়ে দেন, সৎ আমল ও দাওয়াতি কাজের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
  • যেসব মুসলিম হজে যেতে অপারগ বা বাজেটের বিষয় বিবেচনায় নিতে হয়, ইজতেমা হলো এমন একটি সুযোগ যেখানে ধর্মীয় পরিবেশ, শিক্ষা ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতা মিলিত হয়।

🌍 বর্তমান অবস্থা প্রসার

  • বাংলাদেশের টঙ্গিতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ইজতেমা এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় এমন ধর্মীয় সমাবেশগুলোর একটি, হজের পর মুসলিমদের সবচেয়ে বিশাল মিলনস্থল বলে বিবেচিত হয়।
  • এটি তিন দিনের প্রোগ্রাম, যেখানে হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন—শিক্ষণ, ধর্মীয় বক্তৃতা, দোয়া, এবং পরে ছোট-দলের দল গঠন করা হয় যারা দেশ-বিদেশে দাওয়াতি কাজ করে।

ইজতেমা এখন শুধু বাংলাদেশেই নয়, ভারত, পাকিস্তান, বিভিন্ন আফ্রিকান দেশ, ইউরোপ ও অন্যান্য স্থানে আয়োজন করা হয়, যার মাধ্যমে তাবলিগ জামাতের দাওয়াত ও কার্যক্রম বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে।