শিশুকে কতক্ষণ স্ক্রিন ব্যবহার করতে দেওয়া উচিত?

শিশুকে কতক্ষণ স্ক্রিন ব্যবহার করতে দেওয়া উচিত?

বর্তমান যুগে প্রযুক্তি আমাদের জীবনের এক অপরিহার্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্মার্টফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ কিংবা টেলিভিশন—সবকিছুই এখন শিশুর হাতের নাগালে। অনেক সময় বাবা-মায়েরা শিশুকে সামলানোর সহজ উপায় হিসেবে তার হাতে ফোন তুলে দেন বা কার্টুন চালিয়ে দেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, দীর্ঘ সময় ধরে স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকা শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং আমেরিকান একাডেমি অফ পেডিয়াট্রিকস (AAP) অনুযায়ী—

  • ২ বছরের নিচের শিশুদের একদমই স্ক্রিনে সময় দেওয়া উচিত নয়।
  • ২ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের দৈনিক সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা স্ক্রিন টাইম দেওয়া যেতে পারে।
  • ৬ বছর বা তদূর্ধ্ব শিশুদের ক্ষেত্রে সময় কিছুটা বাড়ানো গেলেও তা অবশ্যই নিয়ন্ত্রিত ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হতে হবে।

⚠️ বেশি স্ক্রিন টাইমের ক্ষতি

অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারে শিশুর মধ্যে নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে—

১.চোখের ক্ষতি ও ঝাপসা দেখা: দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে তাকালে চোখের চাপ বাড়ে, ফলে দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হতে পারে।

২.ঘুমের সমস্যা: স্ক্রিনের আলো মস্তিষ্কে ঘুমের হরমোন ‘মেলাটোনিন’-এর নিঃসরণে বাধা দেয়।

৩.মনোযোগে ঘাটতি: বেশি কার্টুন বা ভিডিও দেখলে শিশুর মনোযোগ ও শেখার ক্ষমতা কমে যায়।

৪.ভাষাগত বিকাশে বিলম্ব: স্ক্রিনের পরিবর্তে বাস্তব যোগাযোগ কমে গেলে শিশুর কথা বলা ও বোঝার ক্ষমতা ধীর হয়।

৫.আচরণগত সমস্যা: গেম বা ভিডিওর অতিরিক্ত প্রভাব শিশুকে রাগী বা একঘেয়ে করে তুলতে পারে।

 

 কি করা যেতে পারে?

১.শিশুর সামনে নিজের স্ক্রিন ব্যবহার কমিয়ে তাকে অনুসরণযোগ্য উদাহরণ দিন।
২.কার্টুন দেখানোর সময় পাশে বসে ব্যাখ্যা দিন বা প্রশ্ন করুন, যেন সেটা শিক্ষামূলক হয়।
৩.ঘরের বাইরে খেলাধুলা, আঁকা বা বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
৪.ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব স্ক্রিন বন্ধ রাখুন।

স্ক্রিন পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা সম্ভব নয়, তবে সচেতন ব্যবহারই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তি যেন শিশুর বিকাশে বাধা না হয়ে বরং শেখার সহায়ক হয়—সেদিকেই নজর দিতে হবে অভিভাবকদের।