ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে আলোচিত ও শ্বাসরুদ্ধকর বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনা হিসেবে ১৯৭৭ সালের জাপানি বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনা চিহ্নিত করা হয়। জাপানিজ রেড আর্মি নামক বামপন্থী জঙ্গি সংগঠনটি ভারত থেকে জাপান এয়ারলাইন্সের একটি বিমান ছিনতাই করে ঢাকায় নিয়ে আসে। এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
জাপানিজ রেড আর্মি ১৯৭১ সালে ফুসাকো শিগেনোবু নামের এক তরুণী দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়। তারা জাপানে রাজতন্ত্র ও পুঁজিবাদকে ধ্বংস করে বৈশ্বিক বিপ্লব ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে কাজ করত। ১৯৭7 সালের ২৮ সেপ্টেম্বর, এই সংগঠনটি জাপান এয়ারলাইন্সের একটি বিমান ছিনতাই করে ঢাকায় নিয়ে আসে। তারা জাপান সরকারের কাছে মুক্তিপণ ও তাদের বন্দী সদস্যদের মুক্তির দাবি জানায়।
বাংলাদেশ সরকার এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় রক্তপাত এড়িয়ে নিজের হাতে এই ঘটনার সমাধান করতে চেয়েছিল। তারা জাপান সরকারকে জানায় যে, কোনো ধরনের সশস্ত্র বাহিনী বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। পরবর্তীতে, দর-কষাকষির মাধ্যমে জাপান সরকার নীতিগতভাবে মুক্তিপণ ও বন্দী সদস্যদের মুক্তির প্রস্তাব দেয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ছিনতাইকারীরা তাদের দাবি পূর্ণ হওয়ার পর বিমানটি ছেড়ে দেয়।
এই ঘটনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করে এবং দেশের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে, একই সময়ে পাকিস্তান থেকে বিমান ছিনতাই করে বাংলাদেশে আনার চেষ্টা করে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান, যা স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
সর্বোপরি, ১৯৭৭ সালের জাপানি বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনা উপমহাদেশের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ও শ্বাসরুদ্ধকর ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো, সময় নিউজ, রাইজিংবিডি