শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও ঘটনাটি একেবারেই সত্য। লন্ডনের টেমস নদীতে সম্প্রতি এমন এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে যা বিজ্ঞানী ও পরিবেশবিদদের চমকে দিয়েছে। নদীর পানিতে মাদক জাতীয় উপাদান মিশে যাওয়ায় সেখানে থাকা মাছগুলো আস্তে আস্তে নেশাগ্রস্থ হয়ে পড়ছে!
বিশেষজ্ঞদের মতে, শহরের ড্রেনেজ সিস্টেম বা নিকাশী পথে যখন মানুষ মাদক সেবনের পর অবশিষ্ট পদার্থ বা ওষুধের অবশিষ্টাংশ ফেলে দেয়, সেগুলো ধীরে ধীরে পানির সঙ্গে মিশে নদীতে গিয়ে পড়ে। টেমস নদীর পানি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তাতে মাদকজাত রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা মাছের শরীরে প্রবেশ করছে খাবারের মাধ্যমে।
বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন, এই মাদকমিশ্রিত পানিতে থাকা মাছগুলো অস্বাভাবিক আচরণ করছে। কেউ কেউ আগের তুলনায় কম সক্রিয় হয়ে পড়ছে, আবার কেউ কেউ অতিরিক্ত চঞ্চলতা দেখাচ্ছে। এমনকি কিছু মাছের প্রজনন ক্ষমতাতেও প্রভাব পড়ছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
এই পুরো ঘটনাটির মূলে রয়েছে মানুষের অসচেতনতা। ঘরে ব্যবহৃত ওষুধ, নেশাজাত পদার্থ, কিংবা অন্যান্য রাসায়নিক দ্রব্য যথাযথভাবে নিষ্পত্তি না করেই অনেক সময় ড্রেনে ফেলে দেওয়া হয়। এর ফলেই পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, আর তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে নদী ও জলজ প্রাণীর ওপর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হলো সচেতনতা বৃদ্ধি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নতি। ওষুধ বা রাসায়নিক দ্রব্য সঠিকভাবে নষ্ট করা, বর্জ্য পরিশোধন প্রক্রিয়ায় কঠোরতা আনা এবং নদীর পানির নিয়মিত মান পরীক্ষা করলেই পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।