বাংলাদেশের বিউটি পার্লারের জানা-অজানা!

বাংলাদেশের বিউটি পার্লারের জানা-অজানা!

১৯৬৩ সালে ঢাকায় প্রথম বিউটি পার্লার চালু করেন চীনা নাগরিক কার্মেল চ্যাং লিউ শেই। প্রথমে এর কোনো নাম না থাকলেও ১৯৬৫ সালে এটি মে ফেয়ার নামে আবার চালু হয়। তার পরপরই হংকং বিউটি পার্লারও ছিল ঢাকায়। আরও পরে লি বিউটি পার্লার চালু হয়। মূলত এ দেশে আসা চীনারাই এই পার্লারগুলো পরিচালনা করতেন। সেই সময়ে অভিনেত্রী এবং অভিজাত পরিবারের নারীরাই সৌন্দর্যচর্চাকেন্দ্রের সেবা গ্রহণ করতেন। 

১। শুরুর দিকে বিয়ের সাজ, চুল কাটা—এ রকম দু-তিনটি সেবাই মূলত দেওয়া হতো মেয়েদের পার্লারে। 

২। স্বাধীনতার পর প্রথম বাঙালি হিসেবে জেরিনা আজগর খোলেন লিভিং ডল বিউটি পার্লার। সেটা সত্তরের দশকের কথা। চীনা পার্লারগুলোতে গ্রাহকদের সঙ্গে অপেশাদার ব্যবহার দেখে জেরিনা আজগর অনুভব করেন পার্লার চালু করা উচিত। সৌন্দর্যচর্চার পাশাপাশি প্রশিক্ষণও দিতেন তিনি। পুরানা পল্টনের গাজী ভবনে একটি ঘরে দুটি চেয়ার নিয়ে শুরু করেন পার্লার যাত্রা। ১৯৯৬ সালে চলে যান ঢাকার গুলশানে। 

৩। ঢাকার বাইরে প্রথম বিউটি পার্লার চালু হয় চট্টগ্রামে, লুসি বিউটি পার্লার।

৪। নব্বইয়ের দশকে এসে বিউটি পার্লারের সংখ্যা বেড়ে যায় বাংলাদেশে। বেড়ে যায় সেবা নেওয়ার পরিমাণও। শুরু হয় নগর সংস্কৃতির নতুন ধারা। 

৫। ঢাকায় জনপ্রিয় সৌন্দর্যসেবাকেন্দ্রগুলোর মধ্যে আছে পারসোনা, ফারজানা শাকিল’স মেকওভার স্যালন, ওমেন্স ওয়ার্ল্ড, কিউবেলা, রেড বিউটি পারলার অ্যান্ড স্যালন, হারমনি স্পা অ্যান্ড ক্লিওপেট্রা বিউটি স্যালন, মিউনিজ ব্রাইডাল, বানথাই বারবার অ্যান্ড বিউটি স্যালন, হেয়ারোবিক্স, অরা বিউটি লাউঞ্জ, বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ, মেনস কেয়ার, অ্যাডোনিস, ডিভাইন বিউটি স্যালন, লাবেল বিউটি স্যালন, নিল’স, প্রিভে স্যালন অ্যান্ড স্পা ইত্যাদি। 

৬। চট্টগ্রামে আছে লুসি, পারসোনা, ইভস, হাবিব তাজকিরাস, আলভিরা’স, টাচ অ্যান্ড গ্লো, ফেয়ার টাচ, নির্ভানা, নিউ লুক, বিউটি বাফে, ব্লাশ বিউটি লাউঞ্জ, লিয়েনা ইত্যাদি। 

৭। বরিশালের অপ্সরী বিউটি পার্লার, রুনি’স বিউটি পার্লার, কাঞ্চি ডিলাক্স, প্রিয়া বিউটি পার্লার, নাজমা বিউটি পার্লার, ববি বিউটি পার্লার, দীপালী বিউটি পার্লার, কৃষ্ণচূড়া বিউটি পার্লার, দোলা বিউটি পার্লার, চন্দ্রমুখী বিউটি পার্লার, রিয়েন বিউটি পার্লার ইত্যাদি বেশ পরিচিত।

৮। যশোরেও পার্লারের বেশ দাপট। আছে হলি, টুইঙ্কেল, জেসিকা, দোলা, ড্রিম গার্ল, সানন্দা, ক্ল্যাসিক ফেয়ার, বিউটি ক্যাজুয়াল, আশা ইত্যাদি। 

৯। খুলনায় আছে এক্সক্লুসিভ কানিজ হেয়ার অ্যান্ড বিউটি, ফেম বিউটি পারলার, জেসি’স বিউটি পার্লার, দুলহান বিউটি পার্লার, এশিয়ান জেন্টস পার্লার, রেজটি বিউটি পার্লার, অপ্সরা বিউটি পার্লার, বিউটি ক্যাসেল, ফেয়ার অ্যান্ড গ্ল্যামার বিউটি পার্লার, তানিয়া’স বিউটি পার্লার, ফেইস প্লেস বিউটি পার্লার ইত্যাদি। 

১০। নিবন্ধিত পার্লারের সংখ্যা সাড়ে তিন লাখের মতো। তবে এ সংখ্যা আরও বেশি হবে বলে ধারণা করা হয়।

১১। ছেলেদের মোট পার্লার বা সেলুনের সংখ্যা পাঁচ লাখ। 

১২। নারী কর্মজীবীদের মোট সংখ্যার ১৮ শতাংশ পার্লারে কাজ করছেন।

১৩। বাংলাদেশে পার্লারের সেবা এবং সৌন্দর্য পণ্যের বাজার বছরে প্রায় ৫০০ কোটি ডলারের।

১৪। পার্লারের কর্মী হিসেবে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী থেকে আসা মেয়েরা বিশাল একটা জায়গা দখল করে আছেন। দক্ষতা ও কর্মক্ষমতাই সেটার কারণ।

১৫। কিছু পার্লার বাদে পুরো দেশে প্রতিটি পার্লারে গড়ে প্রতিদিন ১০ জন করে গ্রাহক যান সেবা নিতে। 

১৬। বেশির ভাগ গ্রাহক বিকেলের দিকে যান পার্লারে। ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সীরা সেবা নেন বেশি।