অবিশ্বাস্য ঘটনা!!!এক গাছেই ধরে চল্লিশ রকমের ফল!!!

অবিশ্বাস্য ঘটনা!!!এক গাছেই ধরে চল্লিশ রকমের ফল!!!

একের ভেতর তিন বা একের ভেতর পাঁচ কথাগুলো আমরা বরাবরই শুনি। কিন্তু একের ভেতর চল্লিশ! ব্যাপারটা একটু বেশি মনে হচ্ছে। আর সেটা যদি কৃত্রিমতার ছোঁয়ায় প্রাকৃতিক সৃষ্টির মাঝে হয়ে থাকে তা অবশ্যই অভিনব ও অবিশ্বাস্য। একই গাছে চল্লিশ ধরনের ফল! সেটা কতটুকু সম্ভব?

তেমনটাই সম্ভব করেছেন নিউইয়র্কের সিরাসিউজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্যাম ভ্যান অ্যাকেন। তার উদ্ভাবিত এই গাছটির নাম ‘ট্রি অব ফরটি ফ্রুটস’ অর্থাৎ, ৪০ ফলের গাছ। গাছটিতে বীচিযুক্ত ফল বরই, এপ্রিকট (খুবানি), চেরি, নানা জাতের পিচফল, রাসবেরি, বাদাম জাতীয় ফল উৎপন্ন হয়। অদ্ভুত ধরনের এই গাছটির পেছনে ভ্যান অ্যাকেনের খরচ হয়েছে নয়টি বছর।

এ গাছের বয়স দুই বছর হলে তিনি গাছের শাখাতে আরও কিছু গাছের কলম স্থাপন করেন। কিছু ডালপালা পরিপুষ্ট হলে ৪-৫টি ডাল কেটে নিয়ে নতুন প্রজাতির আরও গাছের ডাল গ্রাফট করেন। এভাবে ২৫ প্রজাতির ভিন্ন ভিন্ন গাছের অংশ জোড়া লাগিয়ে পরিচর্যা করেন। বছর দুয়েকের পরিচর্যায় নতুন ডালগুলো একে-অন্যের সাথে খনিজ পদার্থ আদান-প্রদানে সমর্থ হয়। ভিন্ন ভিন্ন জাতের গাছের ডালগুলোর মধ্যে গড়ে ওঠে দারুণ সখ্য। ভ্যান অ্যাকেন এভাবে ধীরে ধীরে ৪০টি ফলের গাছ জোড়া লাগান। এভাবে নিরলস চেষ্টায় তিনি এ বছরের ১৪ জুলাই মোট ১৬টি ‘৪০ ফলের গাছ’ তৈরি করেছেন।

তার একেকটি গাছ উৎপন্ন করতে প্রায় পাঁচ বছরের মতো সময়ের প্রয়োজন হয়। ৪০ ফলের গাছটি দেখতে অন্য যে কোনো গাছের মতোই। তবে বসন্তকালে এর ভিন্নরূপ খুঁজে পাওয়া যায়। বিভিন্ন ফুল ফুটে গাছটি গোলাপি, লালচে আর সাদা রঙের সংমিশ্রণে এক অপূর্ব রূপ ধারণ করে। আর গাছটির ফল পাকার কাল হল জুলাই থেকে অক্টোবর মাস। একেক ডালে একেক রকম আর একেক স্বাদের ফল। এ এক অপূর্ব সৃষ্টি!

 

রীতিমতো বিখ্যাত বনে যাওয়া ভ্যান একেন এক সাক্ষাৎকারে বলেন ‘আমি প্রথমত আমার এই একগাছে ৪০ ফলের সৃষ্টিকে একটি শিল্পকর্ম হিসেবে দেখি, এরপর মনে করি এটা গাছের প্রজন্ম সংরক্ষণের একটি পন্থা ও একটি মহৎ গবেষণা প্রকল্প। শিল্পকর্ম এই জন্যে যে এই গবেষণায় প্রতিদিনই গাছটিতে ভিন্নতা আনয়ন করতে হয়েছে। এটি একটি চমৎকার রকমের গবেষণা, এই কারনে যে এখানে ব্যাপক সময় নিয়ে বিভিন্ন রকমের ফুলের সঙ্গে একে অপরের মাঝে সম্পর্ক তৈরি হয় আর সেখানে অদ্ভুদ এক পরাগায়ন ঘটে।’?

এই চমকপ্রদ গাছগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জাদুঘরে ও কমিউনিটি সেন্টারে শোভা পাচ্ছে। ভ্যান একেনের মনোযোগ এখন এরকম ‘?৪০ ফলের এক গাছ’-এর একটি ফলবাগান তৈরি করা।

সূত্র: ইন্টারনেট

 

ভ্যান অ্যাকেনের এই বিস্ময়কর সাফল্যের চাবিকাঠি কেবল একটি কাজ। তা হল- গ্রাফটিং। উদ্ভিদ বিজ্ঞানে গ্রাফটিং পদ্ধতি হচ্ছে এক ধরনের অযৌন প্রজনন পদ্ধতি, সোজা বাংলায় যাকে কলম করা বলা হয়। এ পদ্ধতিতে তিনি দুটি গাছের ডাল এমনভাবে জুড়ে দিয়েছেন যাতে উভয় গাছের শিরা-উপশিরা পরস্পরের মধ্যে প্রবাহিত হয়। ঠিক দুটি রক্তনালীকে মিলিয়ে দেয়ার মতো। আবে ডাল জুড়ে দেয়াকে ইনসকুলেশন বলে। নালী দুটিকে বলা হয় লোয়েম এবং জাইলেম। এই পদ্ধতিতে দুটি গাছ তাদের পানি, চিনি এবং খনিজ পদার্থ অর্থাৎ উভয়ের মাঝে খাদ্য বিনিময় করে।

যদিও গ্রাফটিংয়ের মাধ্যমে একাধিক গাছ জুড়ে দেয়া যায়, তবে চল্লিটি গাছকে এক করা প্রায় অসম্ভব। এর জন্য বছরের পর বছর শ্রম মেধা ব্যয়ের পরও ব্যর্থতা আসতে পারে। কিন্তু থেমে থাকেননি ভ্যান একেন। তিনি ৩-৪ বছর গাছটির পরিচর্যা করেছেন। গাছটির কলমের জন্য যেসব গাছ ব্যবহার করেছেন তার মূল উৎস ছিল নিউইয়র্ক স্টেট এগ্রিকালচারাল এক্সপেরিমেন্ট স্টেশনের একটি বাগান। এই বাগানটি নষ্ট করা হবে এমন খবর পেয়ে তিনি এর ইজারা নেন। বাগানে প্রায় ২৫০ প্রজাতির গাছ ছিল। তিনি এই গাছগুলোর ফুল ফোটা, ফল ধরা এসব জীবনক্রমের তথ্য বের করেন। এর ভিত্তিতে তিনি একটি গাছের মূল গঠনে আরও কয়েকটি গাছের কলম স্থাপন করেন।