সাল বদলের উৎসব, অর্থাৎ ইংরেজি বা গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের নববর্ষ, বিশ্বের বহু দেশে উদযাপিত হয়। নতুন বছরের আগমনকে উদযাপনের মাধ্যমে মানুষ আশা, আনন্দ এবং নতুন পরিকল্পনার সূচনা করে। তবে আশ্চর্যজনকভাবে এমন কিছু দেশ রয়েছে যেখানে ইংরেজি নববর্ষকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না বা অন্য ক্যালেন্ডারের নববর্ষ পালন করা হয়।
১. উত্তর কোরিয়া
উত্তর কোরিয়ার মানুষ গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার ব্যবহার করলেও, তাদের নিজস্ব ক্যালেন্ডারের নতুন বছর উদযাপন বেশি প্রচলিত। উত্তর কোরিয়ায় ২০১৮ সাল ইংরেজি ক্যালেন্ডারে অর্থাৎ ১০৭তম বছর হিসেবে গণনা করা হয়। ফলে, ২০১৯ সাল তাদের কাছে ১০৮ তম বছর। দেশটি রাষ্ট্রপতির জন্মদিন বা রাষ্ট্রসংক্রান্ত বিশেষ দিনকে বড় করে উদযাপন করে, ইংরেজি নববর্ষকে নয়।
২. ইরান ও আফগানিস্তান
এই দেশগুলো হিজরি সূর্য বা হিজরি চন্দ্র ক্যালেন্ডার অনুসরণ করে। তাদের নতুন বছর হলো নৌরুজ, যা সাধারণত মার্চ মাসে শুরু হয়। ইংরেজি নববর্ষের উদযাপন এখানে সাধারণ জনগণের জীবনে প্রভাব ফেলে না।
৩. ইথিওপিয়া
ইথিওপিয়ার ক্যালেন্ডার গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের থেকে প্রায় ৭–৮ বছর পিছিয়ে থাকে। তাদের নতুন বছর এনকুটাতশ উদযাপিত হয় সেপ্টেম্বর মাসে। ইংরেজি নববর্ষের উদযাপন এখানে ব্যাপক নয়।
৪. চীনা সম্প্রদায় (বিশেষ অঞ্চল)
চীনের বেশিরভাগ মানুষ চীনা লুনার ক্যালেন্ডার অনুসরণ করে, যেখানে নতুন বছর হলো চীনা নববর্ষ বা স্প্রিং ফেস্টিভাল। ইংরেজি নববর্ষ এখানে শুধুমাত্র শহুরে এলাকায় বা পর্যটকদের মধ্যে কিছুটা উদযাপিত হয়।
ইংরেজি নববর্ষ বিশ্বের প্রায় সব দেশে পরিচিত হলেও, সব দেশের মানুষের জীবনধারায় এটি সমানভাবে প্রভাব ফেলেনা। বহু দেশ নিজস্ব ক্যালেন্ডার অনুসারে নববর্ষ উদযাপন করে, যেখানে স্থানীয় সংস্কৃতি ও ধর্মীয় উৎসবকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।